স্মার্টফোনের গতি বাড়ানোর ১৪ টি সহজ উপায়। (How to speed up your smartphone).

স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন ছাড়া বর্তমানে চলা অনেক কষ্টের বিষয় কিন্তু এই স্মার্টফোন অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ফোনের কার্যশক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। পরে দেখা যায় অনন্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মতো স্মার্টফোনও ধীরগতির হয়ে গেছে । স্মার্টফোন স্লো বা ধীর গতি সম্পন্ন হয়ে গেলে যে ১৪ টি কাজ করা প্রয়োজন।

অপারেটিং সিস্টেম আপডেট রাখা

অপারেটিং সিস্টেম সবসময় আপডেট না রাখাকে স্মার্টফোন স্লো হওয়ার প্রধান কারণ হিসাবে মনে করি। কারণ স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো অপারেটিং সিস্টেমের আপডেটে বাগ ও ল্যাগ ফিক্স করে থাকে। অপারেটিং সিস্টেমকে সংক্ষেপে বলা হয় ওএস (OS)। এই ওএস আপডেট রাখা খুবই প্রয়োজন। ওএস আপডেট না থাকলে স্মার্টফোন স্লো হয়ে যায় অনেক সময় সঠিকভাবে কাজ করে না। তাই স্মার্টফোনের ওএস (OS) বা অপারেটিং সিস্টেম সবসময় আপডেট রাখা প্রয়োজন।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস আনইন্সটল করা

আপনার স্মার্টফোনে যদি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস থাকে তাহলে এখনি আনইন্সটল করুন বা বাদ দিন, এই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস থাকার কারনে স্মার্টফোন স্লো হয়ে যায়। মাঝে মাঝে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস ইন্সটল করলে স্মার্টফোন হ্যাং হতে পারে। এতে কাজের গতি কমে যায়। অনেক সময়ে বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হবে। তাই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস ডিভাইসে না রাখাই উত্তম।

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অ্যাপ রাখলে ফোনের গতিশীলতা নষ্ট হয়ে যায় তাই কিছু অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস কিংবা কম ব্যবহিত অ্যাপস বাদ দিতে পারেন। পরে যদি খুবই প্রয়োজন হয় তাহলে ইন্সটল করে কাজ শেষ করার পর আবার আনইন্সটল করে দিন।  

ব্যাকগ্রাউন্ডের অ্যাপ গুলো বন্ধ রাখা

কিছু কিছু অ্যাপ ওপেন করে আবার বন্ধ করার পর যদি আপনি ফোন ব্যবহার নাও করেন তারপরও ব্যাকগ্রাউন্ডে অটোমেটিক সচল থাকে। এটা র্যাম ও প্রসেসরের উপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। তাই আপনার স্মার্টফোন ভাল রাখতে ব্র্যাকগ্রাউন্ডে সচল থাকা বিভিন্নঅ্যাপ গুলো বন্ধ রাখাউচিত।

স্মার্টফোনের অ্যাপসগুলো আপডেট রাখা

স্মার্টফোন স্লো হয়ে যাওয়ার অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে ফোনের অ্যাপস গুলো আপডেট না রাখা। বিভিন্ন সময় ফোনের অ্যাপসগুলো ব্যবহার করার সময় দেখবেন আপডেট চাইবে। সে ক্ষেত্রে অ্যাপটি আপডেটের জন্য অনুমতি দিতে হবে। এতে স্মার্টফোন স্লো হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা করা যাবে।

সিনেমা, নাটক, টিভি শো ও মিউজিক ডিলিট  করা

কিছু সিনেমা, নাটক, টিভি শো ও মিউজিকএক বা একাধিকবার দেখার পরও অনেক সময় আমরা স্মার্টফোনে রেখে দিই। এইসব জিনিস স্মার্টফোনের মেমোরির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে যার ফলে স্মার্টফোন স্লো হয়ে যায়। তাই প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া বাকি সব সিনেমা, নাটক, টিভি শো ও মিউজিক ডিলিট করে ফেলুন।

স্মার্টফোনের হোম স্ক্রিন ক্লিয়ার রাখা

স্মার্টফোনের হোম স্ক্রিনে কোন লাইভ ওয়ালপেপার, নিউজ এবং অন্যান্য লাইভ অ্যাপ থাকলে ফোন স্লো হয়ে যায়। এ জন্য ফোনের হোম স্ক্রিন পরিষ্কার রাখলে ফোনের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া স্মার্টফোনে বেশ কয়েকটি উইন্ডো খোলা রাখলে গতি অনেক কমে যায়। তাই অধিক উইন্ডো খোলা রাখা থেকে বিরত থাকুন।

ডেটা ক্যাশ ক্লিন বা পরিস্কার করা

স্মার্টফোনে আমরা যখন কোন কাজ করি তখন ডেটা ক্যাশ হিসাবে অপ্রয়োজনীয় কিছু টেম্পোরারি ডাটা স্টোর হয়। এ ক্যাশের ফলে স্মার্টফোনের গতি অনেক কমে যায়। এসব অপ্রয়োজনীয় ডাটা ফাইল ক্লিন বা পরিস্কার করে আপানার স্মার্টফোনের গতি বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

মেমোরি স্টোরেজ ফুল হয়ে যাওয়া

স্মার্টফোন স্লো হওয়ার আরেকটা অন্যতম কারণ মেমোরি স্টোরেজ ফুল হয়ে যাওয়া। ফোনের মেমোরিতে ভিডিও, মিউজিক, পিকচার, মেসেজ বা কনট্যাক্ট ইত্যাদি দিয়ে ফুল হয়ে গেলে স্মার্টফোন অটোমেটিক স্লো হয়ে যায়। এ জন্য স্মার্টফোনে অপ্রয়োজনীয় জিনিস না রাখাই উচিত।  

যদি কোনো ভিডিও, ছবি বা পুরনো টেক্সট মেসেজ সৃতি হিসাবে রাখতে চান তাহলে সেগুলো গুগল ড্রাইভ বা কম্পিউটারে রেখে দিন তারপর মেমোরি স্টোরেজ খালি রাখুন।

কাস্টম রম ইনস্টল করা

আপনি যদি পারেন তাহলে ফোনের কাস্টম রম ইনস্টল করার চেষ্টা করুন। তাহলে দেখা যাবে আপনার ফোনের গতি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে ।

ডাউনলোড ফোল্ডারের ডাটা খালি করা

ডাউনলোডকৃত বেশির ভাগ জিনিসই স্মার্টফোনের ফোন মেমরি বা ডাউনলোড ফোল্ডারে জমা হয়ে থাকে। এসব ফোল্ডারে যদি কোন অপ্রয়োজনীয় জিনিস থাকে তাহলে সেগুলো ডিলেট করা উচিত। ফোল্ডার খালি থাকলে স্মার্টফোনের কার্যক্ষমতা ভাল থাকবে।

ব্রাউজারের ডাটা ক্লিয়ার করা

ইন্টারনেটে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাইট ব্রাউজিং করি, ব্রাউজিং করার পরে তার হিস্ট্রি, কুকিজ ও ক্যাচ ফাইল থেকে যায়। ব্রাউজিং করার পরে নিয়মিত সেগুলো ডিলিট করলে আপনার স্মার্টফোনের গতি বেড়ে যাবে দ্বিগুণ।

স্বয়ংক্রিয় সিঙ্ক বন্ধ করা

বর্তমানে স্মার্টফোনের অ্যাপ সেটিংসে বেশ কিছু অপশন আছে। আপনি সেই অ্যাপ সেটিংসগুলোতে একটু চেক করে নিতে পারেন। যদি দেখেন কোন অ্যাপ অটোমেটিক সিঙ্ক হচ্ছে তবে তা বন্ধ করে দিন তাহলে দেখবেন আপনার স্মার্টফোনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট দেয়া

যদি মনে করেন আপনার স্মার্টফোনটি অতিরিক্ত স্লো হয়ে গেছে তাহলে ফোনটি ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট করে নিতে পারেন। তবে অবশ্যই ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট দিতে চাইলে ফোনের সব ডাটার ব্যাকআপ রেখে নিবেন। কারণ ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট দেয়ার পর স্মার্টফোনে পুরনো কোনো ডাটা,তথ্য,ফাইল থাকবে না। ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট হয়ে গেলে আবার সবকিছু নতুন করে সেটআপ করে নিতে হবে।

ব্যাটারি পাল্টানো

দুর্বল এবং পুরনো ব্যাটারি স্মার্টফোনের ওপর বিভিন্ন ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। যদি মনে করেন আপনার ফোনের ব্যাটারি দুর্বল তাহলে ব্যাটারি পরিবর্তন করে নিতে পারেন তবে ব্যাটারি পরিবর্তনের সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন এটা অথরাইজড সোর্স থেকে আসছে কিনা। যদি অথরাইজড সোর্স থেকে না আসে তাহলে পরিবর্তন করবেন না।

আরো পরুনঃ